সারাদেশ

আজ ইয়াসমিন ট্র্যাজেডি দিবসঃ

দিনাজপুর \ দিনাজপুরসহ দেশ ব্যাপী দিবসটি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি উপলক্ষে নিহত ইয়াসমিনের গোলাপ বাগ বাড়ীতে কোরআন খানি ও মিলাত মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে আজ। এছাড়াও দিনাজপুর ও দশমাইল এলাকার নারী ও বিভিন্ন সংগঠন ইয়াসমিনের কবর জিয়ারতসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যে দিবসটি উদ্যাপন করবে। ২১ বছর আগের কথা, ১৯৯৫ সালের ২৪ আগষ্ট কিশোরী ইয়াসমিন ঢাকা থেকে নাইট কোচ যোগে দিনাজপুর আসার পথে দিনাজপুরের দশমাইলে কোচ থেকে নেমে দিনাজপুর গোলাপ বাগের বাড়িতে মা শরীফা বেগমের সাথে সাক্ষাৎ করতে রাতে দশমাইলের একটি চায়ের দোকানে অপেক্ষা করছিল, এমন সময় দিনাজপুরের টহল পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান পৌছে দশমাইলে। পুলিশ ইয়াসমিনকে দিনাজপুরে পৌছে দেয়ার নামে পিকআপ ভ্যানে তুলে নেয়ার পর পথিমধ্যে গাড়ী থামিয়ে ক’জন নারী নোলুপ পুলিশ কিশোরী ইয়াসমিনকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি প্রকাশের ভয়ে পুলিশ ইয়াসমিনকে নির্মমভাবে হত্যা করে দিনাজপুর শহর থেকে ৫ কি. মিটার দূরে ব্র্যাক অফিসের পাশে রাস্তায় লাশ রেখে চলে যায়। পরদিন কিশোরী ইয়ামিন ধর্ষণ-হত্যার সূত্র ধরে, পুলিশের ন্যাস্কার জনক ও মর্মান্তিক ঘটনা জানা জানি হয়ে গেলে, বিক্ষুব্ধ জনতা ফুঁসে উঠে। এপরিস্থিতে আজকের সংসদ সদস্য শ্রী মনোরঞ্জনশীল গোপালের নেতৃত্বে হাজারো মানুষ ঘটনার দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করে। ওই সময় ইয়াসমিন ট্রাজেডি ঘটনায় জাগপার সভাপতি রকিব উদ্দীন মুন্না শহরের রামনগরের মোড়ে মিছিল বের করলে সমবেত হয় হাজারো জনতা, শুরু হয় বিক্ষোভ মিছিল। বিক্ষেভকারীরা ধর্ষণ ও হত্যা কারীদের বিরুব্ধে শোচ্ছার হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশ ফাঁড়িসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করে। এদিকে ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনাকে ধামা চাঁপা ও ভিন্ন আলামতে নেয়ার সু-কৌশল অবলম্বন করে দিনাজপুরের একটি পত্রিকার সহায়তায় উল্টো নিঃস্পাপ কিশোরী ইয়াসমিনকে পতিতা হিসেবে অখ্যায়িত করলে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে। ফলে সর্বস্তরের মানুষ বিক্ষোভ মিছিলের মধ্য দিয়ে আইন শৃংখলা পরিস্থির অবনতি ঘটায়। ২৬ আগষ্ট রাতে উত্তেজিত জনতা কোতয়ালি থানা ঘেরাও ও প্রাচীর ভাংচুর করে ও অগ্নিসংযোগে ৫টি পত্রিকা অফিসসহ প্রেস ক্লাবে হামলা চালায়। ২৭শে আগষ্ট সাবেক সাংসদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর দিনাজপুর জেলা মুক্তি যোদ্ধা সংগঠক এম আব্দুর রহিমের(এ্যাডভোকেট) নেতৃত্বে সর্ব স্বতরের ছাত্র জনতা শহরের রাস্তায় নেমে আসে এবং দোষী পুলিশদের শাস্তির দাবীসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বদলীর দাবী করে। ওই সময় পুলিশ বিক্ষিদ্ধ জনতার মিছিল ছত্র ভঙ্গ করতে গুলি চালাতে থাকে এক পর্যায়ে পুলিশের গুলিতে সামু ও কাদেরসহ ৭জন নিহত ও সাংবাদিকসহ শতাধিক বিক্ষোভকারী মানুষ আহত হয়েছিল। রংপুরের বিশেষ আদালতে কিশোরী ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যার বিচারে আদালত সাক্ষ্য প্রমাণে ৩ পুলিশ সদস্যকে মৃত্যু দন্ডাদেশ প্রদাণ করে।

Related Articles

Back to top button
Close