সারাদেশ

আটোয়ারীতে কুরবানী ঈদকে সামনে রেখে কামারদের চলছে ব্যস্ততা:

আবু সাঈদ আটোয়ারী, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার গ্রামীণ প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী কামার শিল্প নানা কারনে আজ বিলুপ্তির পথে। প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব, কারিগরদের মজুরী বৃদ্ধি, তৈরি পণ্যসামগ্রী বিক্রয় মূল্য কম, কয়লার মূল্য বৃদ্ধি,পণ্যের চাহিদা কম থাকায় বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে আটোয়ারী উপজেলার কামার শিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে। মুসলিম সম্প্রদায়ের সর্ববৃহত ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে আটোয়ারী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কামাররা দেশী প্রযুক্তির দা, বঠি, চাকু, কুরাল, বেকি, খুন্তা ও কাটারী নতুন তৈরিও পুরাতন মেরামতে বেশ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। হাট-বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায়র গ্রামের লোকজন গরু, মহিষ, ছাগল জবাই ও মাংস তৈরির কাজের জন্য কামারদের কাছে প্রয়োজনীয় ধারালো দেশী তৈরি চাকু, বটি, কাটারি ও ছুরি তৈরির আগাম অর্ডার দেওয়া শুরু করায় কামার পল্লীগুলোতে হাতুরীর বারির টুংটাং শব্দে এখন মুখরিত হয়ে পড়েছে। আধুনিকতার উৎকর্স, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে নানাবিধ সমস্যার কারণে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে হাজার বছরের গ্রাম-বাংলার মানুষের প্রিয় এই কামার শিল্পটি। এক সময় আটোয়ারী উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে প্রায় শতাধিক কর্মকার পরিবার থাকলেও তাদের তৈরি পণ্যসামগ্রী আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় টিকে থাকতে না পারায় অভাব-অনাটন ও চাহিদার তাগিদে বাপ দাদার পৈতিক পেশা ছেড়ে লাভজনক অন্য পেশায় চলে গেছে। বর্তমানে উপজেলার বোদগাঁও কামারপাড়া ,দক্ষিণ বোদগাঁও, তরিয়া,চৌরাগি,ভান্দায়ারা সহ বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ১০০টি পরিবারের কর্মকারেরা তাদের পৈতিক পেশা অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে হলেও দু’মুঠো ভাতের আশায় তারা বাপ দাদার এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যতটুকু লাভ হকনা কেন কোন রকম দিন চললেই তারা বেজাই খুশি অন্য পেশায় যেতে তারা নারাজ। ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে কামার কারিগররা সারা বছরের তুলনায় বর্তমানে দিনরাত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে প্রতিটি হাট-বাজারে। এখানকার কামারদের তৈরি বটি, ছুরি, কাটারি, দা, বেকি, কুঠার, খুন্তা ও লাঙ্গলের ফলাসহ বিভিন্ন ধরণের যাবতীয় প্রয়োজনীয় লৌহজাত দ্রব্য তৈরি করেন। আটোয়ারী উপজেলার বোদগাঁও কামারপাড়া গ্রামের কবি ও অজয় কারিগর জানান, লোহা পিটিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করা আমার পেশা, বাপ-দাদার পৈতিক সূত্রে আমি এই পেশায় জরিত। একটি মাঝাড়ি ধরণের দা ও কাটারি তৈরি করে ওজন অনুযায়ী ২শ’ টাকা থেকে ২শত ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হয়। সাড়া দিন হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে যে কয়টি জিনিস তৈরি করি তা বিক্রয় করে খুব বেশি লাভ না হলেও পরিবার-পরিজন নিয়ে ডাল-ভাত খেয়ে বেচে থাকার স্বার্থে আদি এই পেশা আমি ধরে রেখেছি। তবে সাড়া বছর কাজ-কর্মের ব্যস্ততা তেমন না থাকলেও কুরবানী ঈদকে সামনে রেখে আমার কর্ম ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। সাড়া বছর এই রকম কাজ থাকলে ভালই হত। উপজেলার ,দক্ষিণ বোদগাঁও কামারপারা গ্রামের সুরেন চন্দ্র (৫০) জানান, আমার বাপ-দাদার মূল পেশা ছিল এটা। তাই আমার জীবনের শেষ মূহুর্ত সময়েও এই পেশা ধরে রেখেছি। সাড়া দিন চাকু, বটি তৈরি করে যা আয় হয় তা দিয়েই পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে বাচি। কেন না এই পেশা ছেড়ে অন্য কোন ভাল পেশায় যাবার মত আর্থিক আমার নেই।

Related Articles

Back to top button
Close