সারাদেশ

কমলগঞ্জে বিধবা মহিলা আদালতের রায়ের পর ও জমির দখল পায়নি,দখলদার কর্তৃক হয়রানী দিশেহারা পরিবার

শাহাব উদ্দিন আহমেদ

মলগঞ্জ(মৌলভীবাজার)প্রতিনিধিঃঃ মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বিধবা মফিজা বেগম আদালতের রায়ের ৮ বছর পর জমি সমজিয়ে পাননি। জমি না পাওয়ায় বিধবা তার পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। অপরদিকে দখলদার কর্র্তৃক নানা সময় হামলা ও মিথ্যা ভিত্তিহীন মামলায় হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। বিভিন্ন স্থানে ধর্ণা দিয়ে প্রতিকার না পেয়ে পরিবারটি দিশেহার হয়ে পড়েছেন।

জানা যায়,উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের মৃত মোঃ আব্দুল মতলিব এর স্ত্রী মফিজা বেগম ২ একর জমিতে পুত্র-কন্যা দেরকে নিয়ে সুখেই দিনাতিপাত করছিলেন। স্বামী জীবিত থাকা কালীন সময়ই একই গ্রামের কতিপয় ভুমি খেকোর রোষানলেন শিকার হন। ওই সময় আদালতে জমির স্বত্ব মামলা দায়ের করলে দীর্ঘ দিন পর আদালত মফিজা গংদের পক্ষে রায় দেন। রায় পাওয়ার পর দীর্ঘ ৮ বছর পেরিয়ে গেলে ও জমি সমজিয়ে পাননি। জমি না পাওয়ার কারনে পবিরবার -পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

অপরদিকে নিঃস্ব পরিবারটির উপর দখলদাররা হামলা ও মামলা করে তাদের জীবন বিষিয়ে তুলেছেন।সহকারী জজ আদালত ,মৌলভীবাজার স্বত্ব মামলা সুত্রে আরো জানাযায়,সরকারের নামে ১ নং খাস খতিয়াত ভুক্ত জমি ভুমিহীন হিসাবে ২৬/৭/১৯৭৪ ইং ২৮০৭ নং রেজিষ্টার্ড মুলে শ্রীপুর গ্রামে হায়দর মোহাম্মদ পিতা মৃত-খওয়াজ মোহাম্মদ দখলদার স্বত্ববান ও ভোগদখলদার মালিক হন। ১৫/১২/১৯৯৮ ইং ৪৪৯২/৯৮ সালে একই গ্রামের মৃত জাবিদ উল্লা’র পুত্র মোঃ আব্দুল মতলিব ১ নং খতিয়ানের এসএ ১৫৭০ দাগের ১ একর জমি ক্রয় করেন। একই ভাবে একই এলাকার মোঃ আমির মিয়া নিকট থেকে ১ নং খাস খতিয়ানের এসএ ১৫৭০ দাগের ০.৫০ একর ভুমি এবং একই তারিখের রেজিষ্টার্ড ৩৯২২ দলিলমুলে ১ নং খাসের এসএ ১৫৭০ দাগের ০.৫০ একর ভুমি ক্রয় সুত্রে মালিক ও স্বত্ববান হন।

এই সময় একই গ্রামের মৃত আব্দুল বছির এর ছেলে মজিদ মিয়া। মজিদ মিয়ার ছেলে যথাক্রমে ছামিদ মিয়া ও হামিদ মিয়া,আলাল মিয়ার ছেলে দিলাল মিয়া এবং দিলাল মিয়ার ছেলে যথাক্রমে কামাল মিয়া ও তফিক মিয়া এবং আরব মিয়া’র ছেলে আমির মিয়ার লোলুপ দৃষ্টি পরে মোঃ মতলিব এর জমির উপর। নানা ছল চাতুরীর আশ্রয় নিয়ে জমি হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। মতলিব বাধ্য হয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট ৫৯/২০০৬ ইং বিবিধ মামলা দায়ের করেন। মামলাটি মতলিব মিয়ার পক্ষে রায় হয়। এমতাবস্থায় মতলিব মিয়া মারা যান। তখন ভুমি খেকোরা জমিটি দখলে নিয়ে নেয়। অসহায় অবস্থায় মতলিব এর স্ত্রী মফিজা বেগম ১৮/২০১০ ইং সহকারী জজ আদালত মৌলভীবাজারে স্বত্ব মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দীর্ঘ দিন চলার পর ২৫/৪/২০১২ সালে একতরফা ভাবে মফিজা বেগম এর পক্ষে রায় হয়।

আদালত রায়ের পর ডিক্রিদারগনের ডিক্রিকৃত ভুমি পরওয়ানা ইস্যুর পর জারীকারক মিন্টু দেবনাথ ১৪/২/২০২০ ইং সঙ্গীয় পুলিশ নিয়ে জারী করতে গেলে বিবাদীদের বাঁধাদানের কারনে জারী ছাড়াই ফেরৎ যান। এমতাবস্থায় আদালতের রায়ের পর ও জমি ফেরৎ না পাওয়ার কারনে বিধবা মফিজা বেগম পুত্র -কন্যাদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। দখলদার কর্র্তৃক নানা সময় হামলা ও মিথ্যা ভিত্তিহীন মামলায় হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। বিভিন্ন স্থানে ধর্ণা দিয়ে প্রতিকার না পেয়ে পরিবারটি দিশেহার হয়ে পড়েছেন। অসহায় পরিবারটি সুবিচার প্রার্থনা করছেন।

Related Articles

Back to top button
Close