গাবতলীবগুড়ার-সংবাদ

কোচিং না করায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুম থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ

গাবতলী (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ বগুড়ার গাবতলী তরফসরতাজ সিনিয়র (¯œাতক) ফাজিল মাদ্রাসায় কোচিং না করায় ৮ম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের ক্লাসরুম থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গতকাল রবিবার সকাল ১১টায় মাদ্রাসায় অভিভাবকরা এসে জড়ো হলে ব্যাপক হট্রগোলের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এতে করে চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছে অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীরা।

জানা গেছে, গাবতলী তরফসরতাজ সিনিয়র (¯œাতক) ফাজিল মাদ্রাসায় গভর্নিংবডির সভাপতি ফজলুল হক ও অধ্যক্ষ ইসমাইলের নির্দেশে দীর্ঘদিন আগে থেকে সহকারী অধ্যক্ষ জহুরুল ইসলাম কোচিং ব্যবসা চালু করেছে। মাদ্রাসায় সকাল ৮টা থেকে কোচিং করানো হয়। যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী মাদ্রাসায় কোচিং করে না গত বৃহস্পতিবার তাদের ক্লাস রুম থেকে বের করে দেয়া হয়। এছাড়াও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাদের পছন্দের গাইডবই কিনতে ছাত্রছাত্রীদের বাধ্য করা হয়। যারা তাদের পছন্দের গাইডবই না কিনে অন্য গাইডবই ক্রয় করে তাদের কাছ থেকে তা কেড়ে নেয়া হয়। এমনকি জেডিসি পরীক্ষায় তাদের ফেল করে দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। এ বিষয়ে অত্র মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী তাজমিন সুলতানা রোল নং ০৭ স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, আমরা গত বৃহস্পতিবার মাদ্রাসায় ক্লাস করার জন্য এলে ভাইস প্রিন্সিপাল জহুরুল ইসলাম আমাদেরকে ক্লাস রুম থেকে বের করে দেন। কারণ আমরা মাদ্রাসার কোচিং এ পড়ি না। একই ক্লাসের রিয়া, তাসলিমা, নাজমিন, মিতু, নুরি, রিমু, কেয়া, রুবিনা, মিরা, আফিফা, তানিয়া, সাবিহা, শারমিন বলেন, আমরা মাদ্রাসায় কোচিং না করলে আমাদেরকে ফেল করে দেয়া হবে। যারা মাদ্রাসার কোচিং এ পড়ে জেডিসি রেজিষ্ট্রেশনের জন্য তাদের কাছ থেকে ৩’শ টাকা নেয়া হবে এবং যারা কোচিং করে না তাদের কাছ থেকে ৪’শ টাকা আদায় করা হবে। না দিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করতে দেয়া হবে না। মাদ্রাসায় বাধ্যতামূলকভাবে কোচিং করতে হবে বলে চাপ সৃষ্টি করা হয়। এ ব্যাপারে মাদ্রাসায় ভাইস প্রিন্সিপাল জহুরুল ইসলাম সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মাদ্রাসার কোন ছাত্রছাত্রীকে ক্লাসরুম থেকে বের করে দেয়া হয়নি। কিংবা কোচিং করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়নি। তাদের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবী করেন। মাদ্রাসায় কোচিং করানোর কোন বিধান আছে কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ ইসমাইল হোসেন বলেন, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তে ছাত্রছাত্রীদের ভালো ফলাফলের জন্য মাদ্রাসায় কোচিং করা হয়। তবে তা বাধ্যতামূলক নয়। এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার টিএম আব্দুল হামিদ বলেন, কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোচিং ব্যবসা সরকারীভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

Related Articles

Back to top button
Close