সারাদেশ

খানসামায় প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার অনশন

তফিজ উদ্দিন আহমেদ, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: প্রেম একটি ছোট্ট শব্দ, যার বিশেষ মানেটা সংজ্ঞা দিয়ে বলা যায় না, জীবন দিয়ে বলতে হয়। যদি বলি ওর মূল মানেটা ভালোবাসা। ভালোবাসা কথাটা বিবাহ কথার চেয়ে আরও বেশী জ্যান্ত। এখানে একটু পাদটীকা লাগালে দোষ নেই। জ্যান্ত ভালোবাসা ছাড়া প্রাণ বাঁচেনা। তুমি আর আমি এ দুটোই আমি চাই। তাই প্রেম মানে না কোন নিয়মকানুন, মানেনা কোন জাতকুল। দীর্ঘ তিন বছর ধরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে, প্রেম প্রতারণার এক পর্যায়ে গত বুধবার থেকে ৩ দিন ধরে প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান করে অনশন চালিয়ে যাচ্ছে এক প্রেমিকা। এ প্রেম বিষয়ক ঘটনাটি ঘটেছে খানাসামা উপজেলার ১নং আলোকঝাড়ীর ইউপি’র পূর্ব বাসুলী গ্রামের নিজ পাড়ায়। জানা গেছে, উপজেলার পূর্ব বাসুলী নিজ পাড়া গ্রামের ডাক্তার নরেশ চন্দ্র রায়ের ২য় পুত্র কেশব চন্দ্র রায় (২৫) একই গ্রামের ধরণি চন্দ্র রায়ের কন্যা বকুল রানী রায় (১৯) এর সাথে গত তিন বছর ধরে প্রেম সর্ম্পক চলে আসছিল। প্রেমিকা বকুল রানী রায় এবার এইচ.এস.সি পরীক্ষা দিয়েছে। তাঁর পিতার আর্থিক অবস্থা অস্বচ্ছল হওয়ায় ছেলের পিতা নরেশ চন্দ্র কিছুতেই ছেলের বউ হিসেবে মেনে নিচ্ছেন না মেয়েটিকে। বকুল রানী ছেলের বাড়িতে অবস্থান করে বিয়ের দাবিতে গত ৩ দিন ধরে অনশন করে মানসিকভাবে বিপর্যয়ে রয়েছেন। তাঁকে মানসিকভাবে নির্যাতনসহ কারো সঙ্গে কথা বলা বা দেখা করতে দিচ্ছেন না। ডাক্তার নরেশের ভায়েরা ভাই টংগুয়া (রামকলা) গ্রামের বাদল চন্দ্র রায় বিষয়টি রফাদফা করে মেয়েটিকে তাঁর ইজ্জতের মূল্য হিসেবে ১ লাখ টাকা দিয়ে বাড়ি হতে বের করে দিতে বলেন। উক্ত বিষয়ে এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন সৃষ্টি হলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে যান স্থানীয় দুইজন সাংবাদিক। ছেলের খালু বাদল রায়ের কাছে তথ্য চাইলে তিনি সাংবাদিকদের কোনরুপ তথ্য না দিয়ে বরং তাচ্ছিল্ল ভাষায় কথাবার্তা বলেন যে, বিষয়টি আমাদের আত্মীয়ের ব্যাপার, এটি মিমাংসার পথে তাই আপনারা নিউজ করবেন না। পরে বিষয়টি সাংবাদিক মুঠোফোনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও খানসামা থানা অফিসার ইনচার্জকে অবগত করেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মেয়েটি ছেলের বাড়িতে অনশন অবস্থায় রয়েছে এবং থানায় কোন মামলা হয়নি।

Related Articles

Back to top button
Close