সারাদেশ

খামারের উৎকট গন্ধে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে

মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি ।। ঠাকুরগাঁও সদরের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বিশ্রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি মুরগির খামারের উৎকট গন্ধে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। খামারের মুরগির বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অসুস্থ হয়ে পড়ছে অনেক শিক্ষার্থী ।

বিদ্যালয়টিতে ৪ জন শিক্ষক ও ২২১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। গত বছরের নভেম্বর মাসের দিকে বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে দানেশ আলী নামে বিদেশফেরত এক ব্যক্তি পপুলার পোলট্রি নামের একটি মুরগির খামার গড়ে তোলেন৷ বর্তমানে ওই খামারে চার হাজার ব্রয়লার মুরগি রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে মুরগির খামারটি গড়ে তোলা হয়েছে। খামারের পাঁচটি শেডে এখন মুরগি পালন করা হচ্ছে। খামারের মুরগির বিষ্ঠার উৎকট গন্ধের মধ্যে কয়েকটি কক্ষে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছে। আর খামারঘেঁষা একটি শ্রেণিকক্ষে চলছে শিশু শ্রেণির পাঠ। শিশুরা কিছুক্ষণ পরপর শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে থুতু ফেলছে।

ক্লাশ নিচ্ছিলেন সহকারী শিক্ষক খুরশীদ জাহান। তিনি বলেন “শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড’’ শিক্ষা ছাড়া কেউ উন্নতি করতে পারেনা , আর সেখানে মুরগির বিষ্ঠার গন্ধে শ্রেণিকক্ষে টেকা যায় না। তবু বাধ্য হয়ে পাঠদান চালিয়ে যেতে হয়। গন্ধের কারণে বিদ্যালয়ে শিশু হাজিরা অর্ধেকে নেমে এসেছে। ওই শ্রেণির প্রসারিকা জান্নাত, মিম, করুন জিদ্দাস, অনুপম ঘোষসহ কয়েকজন শিশু বলে, ‘ক্লাসে বেশিক্ষণ বসে থাকলে গন্ধে বমি লাগে।’

পঞ্চম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম বলে, ‘বৃষ্টি হলেই বিষ্ঠার দুর্গন্ধ আরও বেড়ে যায়। তখন আর স্কুলে থাকতে পারি না।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাজিরা খাতুন বলেন, ‘খামারটি গড়ে তোলার সময় খামারের মালিককে স্কুলের পাশে মুরগির খামার করতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের কথা শুনেননি। পরে দুর্ভোগ সহ্য করতে না পেরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির লোকজন মিলে গত ৫ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।’

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল মান্নান বলেন, ‘সরেজমিনে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ দেখে এসেছি। এরপর মালিককে মুরগির খামারটি সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।’

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আফজাল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবকের অভিযোগ পেয়েছি। শিশুরা যাতে নির্বিঘ্নে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারে, এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর মামুন বলেন, দানেশ আলিকে গ্রামের সবাই অনুরোধ করলেও তিনি কারো কথা শোনেন নি ।

এ ব্যাপারে দানেশ আলী বলেন, ‘বিদেশ থেকে ফিরে মুরগির খামারটি করেছিলাম। এখন খামারের জন্য যদি বিদ্যালয়ের শিশুদের ক্ষতি হয় তবে খামারটি বন্ধ করে অন্য ব্যবসা করব।’

Related Articles

Back to top button
Close