বগুড়ার-সংবাদ

গাবতলীতে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামীসহ গ্রেফতার-৩

গাবতলী (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ বগুড়ার গাবতলীতে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী নাহিদা আক্তার বিথী ওরফে মিতু (৩০)কে শারিরীক নিযার্তনে হত্যার অভিযোগে পুলিশ প্রাক্তন স্বামী যুবদল নেতা জিল­ুর রহমান (৩৮) ও তার স্ত্রী-মাকে গ্রেফতার করেছে। গত শনিবার সকালে পুলিশ নিহতের ভাসমান লাশ গাবতলী পৌরসভাধীন পোষ্ট অফিসের পেছনে রেললাইন সংলগ্ন গজারিয়া দহ হতে উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছে। জানা গেছে, গাবতলী পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ডে গোরদহ গ্রামের মৃত মুসা সাকিদারের ছেলে যুবদল নেতা জিল­ুর রহমান (৩৮) বিগত ২০০৪ সালের ৩১জুলাই পারিবারিকভাবে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার আমদিরপাড়া গ্রামের আইয়ূব হোসেনের মেয়ে নাহিদা আক্তার বিথী ওরফে মিতু (৩০)কে বিয়ে করে। বিয়ের দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও তাদের সংসারে কোন সন্তানের জন্ম হয়নি। সেই সুবাদে গত ২০১৬ সালের ৬ই অক্টোবর স্ত্রী বিথীকে তালাক দিয়ে জি রহমান অন্যত্র দ্বিতীয় বিয়ে করে ঘর সংসার শুরু করে। বিয়ের ১বছর না পেরুতেই তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী বিথী পুনরায় ঘর সংসার করার জন্য গত ৪ই আগষ্ট জিল­ুরের বাড়ীতে আসে। বিথীকে বারবার তার নিজবাড়ীতে ফিরে যেতে বলা হলেও সে জিল­ুরের বাড়ীতে অবস্থান নেয়। এতে জিল­ুর ক্ষিপ্ত হয়ে রাতে বিথীকে বেদমভাবে মারপিট করে। গতকাল সকালে স্থানীয়রা উলে­খিত পোষ্ট অফিসের পেছনে গজারিয়া দহের পানিতে বিথীর ভাসমান লাশ দেখতে পেয়ে থানা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে এবং জিল­ুরের মা গোলেবানু (৬৫), স্ত্রী মুন্নি আক্তার (২৪)কে গ্রেফতার করে থানায় আনে। পরে গ্রেফতারকৃতদের দেয়া তথ্যমতে আত্মগোপনে থাকা জিল­ুরকে গতকাল সকালে পুলিশ পৌরসভাধীন সোন্দাবাড়ী এলাকা হতে গ্রেফতার করে। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, জিল­ুর একাধিক মামলার আসামী। সে চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিল। এ ব্যাপারে থানার ওসি খায়রুল বাসার বলেন, গ্রেফতারকৃত জিল­ুর তার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী নাহিদা আক্তার বিথী ওরফে মিতুকে শারিরীক নিযার্তনে হত্যার করার বিষয়টি শিকার করেছে। লাশের শরীরে আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল।

Related Articles

Back to top button
Close