সারাদেশ

চিরিরবন্দরে কৃষি জমিতে ইটভাটা স্থাপন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবী

মো. মিজানুর রহমান (মিজান), চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার পলীতে কৃষি জমিতে প্রতিযোগিতামূলকভাবে গড়ে উঠছে ইটভাটা। যত্রতত্রভাবে গড়ে ওঠা এসব ইটভাটা বন্ধে তদারকি করার কেউ নেই?

চিরিরবন্দর উপজেলার আয়তন ৩১ হাজার ২৮৫ বর্গ কিলোমিটার। এর মধ্যে আবাদী জমির পরিমাণ হচ্ছে ২৫ হাজার ৩শ ৯২ হেক্টর। এ আবাদী জমির মধ্যে ২৩টি ইটভাটা গড়ে ওঠছে। ৭টি ইটভাটা নির্মাণাধীন রয়েছে। এসব ইটভাটা নির্মাণ ও ইট প্রস্তুতের জন্যও সরকারিভাবে সুনির্দিষ্ট বিধি-বিধান রয়েছে। ইটভাটা স্থাপনে জেলা প্রশাসকের দেওয়া লাইসেন্স ছাড়া কোন ব্যক্তি ইট তৈরি করতে পারবে না। সেই সাথে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও প্রয়োজন। এছাড়াও ইটভাটা স্থাপন ও ইট তৈরির ক্ষেত্রে কৃষি জমি/আবাদী জমি, পাহাড়, টিলা, মজাপুকুর, নদী-নালা, দীঘি, খাল-বিল, খাঁড়ি এবং পতিত জমি থেকে মাটি কাঁটা নিষিদ্ধ। শুধু তাই নয়- স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত উপজেলা, ইউনিয়ন কিংবা গ্রামীণ রাস্তা ব্যবহার করে ভারি যানবাহন দিয়ে ইট বা ইট তৈরির কাঁচা মালামাল পরিবহন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রয়েছে।

উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নে দক্ষিণ নশরতপুর গ্রামে রাণীরবন্দর-চিরিরবন্দর সড়কের ঠাকুরের মোড় নামক স্থানে রাণীপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম আবাদী জমিতে এবং আবাসিক এলাকার অতি সন্নিকটে আরএলবি নামে একটি ইটভাটা স্থাপন করছেন। এ ভাটাটির অন্তত ২শ গজ পূর্ব-উত্তর দিকে উত্তর ইছামতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। এ ভাটার সন্নিকটে উত্তর-পশ্চিম পার্শ্বে রয়েছে ঘন বসতিপূর্ণ যতীন সরকারপাড়া।

শুধু তাই নয়- ওই সড়কের পূর্ব ধারে আরএলবি ভাটার মাত্র ১শ গজ দক্ষিণ-পূর্ব পাশে সাতনালা গ্রামের আহম্মেদ আলী মাষ্টারের ছেলে রফিকুল ইসলাম আবাদী জমিতে একটি ইটভাটা স্থাপন করছেন। এ ভাটার পাশেই রয়েছে ৫একর জুড়ে একটি লিচু বাগান ও আবাসিক এলাকা। এ লিচু বাগানের ভিতর দিয়েই চলাচল করছে ভাটার কাজে নিয়োজিত ট্রাক্টরগুলো। ইটভাটার কাজে নিয়োজিত ট্রাক্টরের বিকট আওয়াজ শব্দ দূষণ করছে এবং বেপরোয়া চলাচলে গ্রামীণ রাস্তাগুলোর বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে।

বাগান মালিক ভবেশ চন্দ্র রায় ওরফে নয়াশাহ্ জানান, ইটভাটার কারণে আমার লিচু বাগান নষ্ট হয়ে যাবে। নষ্ট করে ফেলছে আবাদী জমিও। উত্তর ইছামতি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জনৈক শিক্ষক জানান, ওই ইটভাটা দু’টি চালু হলে এলাকার পরিবেশের ওপর বিরুপ প্রভাব পড়বে। বিদ্যালয়ের শিশুদের শ্বাসকষ্টসহ শরীরের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হবে। যতীন সরকারপাড়ার সত্তোরর্ধ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৃদ্ধ জানান, ওই ভাটা চালু হইলে হামার মেলায় ক্ষতি হইবে বাহে। ভাটা সংলগ্ন ভবেশ মুখার্জি, পঞ্চানন রায় জানান, ওই ইটভাটা চালু হলে আমাদের বাড়ি ছেড়ে পালানোর উপক্রম হবে। ইতিমধ্যে হুমকিও এসেছে।

ইটভাটা স্থাপনকারী রবিউল ইসলাম জানান, ইটভাটাটি চালুকল্পে অনুমতির চেষ্টা চালাচ্ছি। নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে অকৃষি জমি হিসেবে প্রত্যয়নপত্র করে নিয়েছি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট ট্রেড লাইসেন্স ও অনাপত্তি সনদ ইতিমধ্যে সংগ্রহ করেছি। ব্যাংক থেকে ভ্যাট ট্যাক্স’র রসিদ নিয়েছি।

জানা গেছে, একটি ইটভাটা স্থাপনে অন্তত ২ হেক্টর জমির প্রয়োজন হয়। সে অনুপাতে উপজেলার ৩০টি ইটভাটায় অন্তত ৬০ হেক্টর জমির প্রয়োজন হয়। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। প্রতিটি ইটভাটায় অন্তত ৩/৫ হেক্টর জমি রয়েছে। এসব ইটভাটার নির্গত কালো ধোঁয়া পরিবেশ দূষণ করছে। ইটভাটার নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় মানুষ, পশু-পাখি, উদ্ভিদ ও জীব বৈচিত্রের ওপর বিরুপ প্রভাব পড়ছে। খাদ্য শস্যসহ বিভিন্ন ফসলাদির উৎপাদনও হ্রাস পাচ্ছে। অনেক সময় বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় কারণে ফসলহানিও ঘটছে। তারপরেও থেমে নেই ইটভাটা স্থাপন। উপজেলায় নতুন নতুন ইটভাটা স্থাপন হয়েই যাচ্ছে। কিন্তু এসব বিধি-বিধানের কোন তোয়াক্কা না করে কতিপয় ধনাঢ্য ব্যক্তি কোন অদৃশ্য শক্তির জোরে আবাদী জমি ও আবাসিক এলাকার সন্নিকটে প্রতিযোগিতামূলকভাবে ইটভাটা গড়ে তুলছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার মাহমুদুল হাসান জানান, ইটভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রে আইন, বিধি-বিধান কোনটিই মানা হচ্ছে না। আইন প্রয়োগ করতে গেলে প্রভাবশালীদের চাপে অনেক বাঁধা-বিপত্তির সম্মুখিন হতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রত্যয়ন দেয়া বন্ধ রয়েছে। এ দু’টি ইটভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কোন প্রত্যয়ন দেওয়া হয়নি।

অবৈধভাবে ইটভাটা স্থাপন বা নির্মাণ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ফিরোজ মাহমুদ জানান, নীতিমালা অনুযায়ী কৃষি জমিতে ইটভাটা স্থাপনের সূযোগ নাই। কেউ এমন করে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিজ্ঞমহল আবাদী জমি উদ্ধারসহ আবাসিক এলাকায় নির্মাণাধীন উক্ত ইটভাটাগুলির বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক কঠোর

Related Articles

Back to top button
Close