সারাদেশ

চিরিরবন্দরে ডিবি পুলিশের পরিচয়ে চাকুরি দেয়ার নামে অর্থ আত্নসাৎ

চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার রাণীরবন্দরে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে পুলিশে চাকুরি দেওয়ার নামে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্নসাৎ করার ঘটনায় আল-আমিন শেখ(৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক চিরিরবন্দর থানার পুলিশের সোর্পদ স্থানীয় জনগণ তুলে দিয়েছে।

জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের দত্তবাড়ি গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে আল-আমিন (৪৮) ৬/৭ বছর পূর্বে চিরিরবন্দর উপজেলার গ্রামীণ শহর রাণীরবন্দরে রাণীপুর (আমতলী) গ্রামে পাশে ভাড়া বাড়ি নিয়ে পরিবারসহ বসবাস করে। এ সুবাদে এলাকার লোকজনের সাথে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। তিনি বিভিন্ন সময় এলাকার লোকজনকে কখনো ডিবি পুলিশের রংপুর বিভাগের এসআই আবার কখনো স্বাস্থ্য মন্ত্রী নাসিমের ভাতিজা বলে পরিচয় দিতো। এরই সূত্র ধরে তিনি উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের রাণীরবন্দর ইয়াতিমখানা ডাঙ্গাপাড়ার লক্ষীকান্ত রায় ওরফে ধলুর এসএসসি পাশ ছেলে স্বপন চন্দ্র রায়কে পুলিশে চাকুরি পাইয়ে দেয়ার নাম করে তাদের নিকট থেকে নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকাসহ ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। গত ২০১৬ইং সালে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে লোক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে আল-আমিন শেখ গত ৪ জানুয়ারি’২০১৭ইং তারিখে স্বপনকে সেই পুলিশ বাহিনীর চাকুরির পরীক্ষা দেয়ার জন্য রাজশাহীতে নিয়ে যায়। পরদিন অথাৎ ৫ জানুয়ারি পুলিশের চাকুরির জন্য লাইনে না দাঁড়িয়েই স্বপনের পুলিশ বাহিনীতে চাকুরি হয়েছে এবং ট্রেনিংয়ের জন্য রাজশাহীর পুলিশ লাইনে নিয়ে গিয়ে স্বপনের ফিঙ্গার প্রিন্ট ও রক্ত পরীক্ষা করে নেন। স্বপন অসুস্থ না হলেও তাকে অসুস্থ দেখিয়ে তোমার আজ চাকুরিতে যোগদান করা হবে না বলেও জানায়। সে আরো জানায় তোমার ৩দিনের ছুটি নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে স্বপনকে সঙ্গে নিয়ে আল-আমিন শেখ তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে চলে যায়। এরপর আল-আমিন শেখ স্বপনকে তার বাড়িতে রেখে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করতে থাকে। আল-আমিন শেখের স্ত্রী মমতা বেগম স্বপনকে বাড়ি থেকে কোথাও বের হতে দিতো না। স্বপন সেখানে এক রকম বন্দিত্ববরণ করে। ওই বাড়িতে ১৭দিন থাকার পর আল-আমিন শেখ স্বপনকে সঙ্গে নিয়ে বগুড়ায় আসে। এরপর ওই ভূয়া ডিবি পুলিশ সেনানিবাসে কাজ আছে বলে বগুড়ার অর্ণপুনা হোটেলের সন্নিকটে কোন এক হোটেলের কক্ষে স্বপনকে আটক করে রাখে। ২৩ জানুয়ারি বিকেলে তারা বগুড়া থেকে চলে আসে রাণীরবন্দরে আল-আমিন শেখের ভাড়া বাড়িতে। সেখানেও স্বপনকে আটক করে রাখা হয়। গত ২৪ জানুয়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কৌশলে স্বপন ওই ভাড়া বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে অন্যের মোবাইল ফোন থেকে তার বাবাকে এ ঘটনা খুলে বলে। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় লক্ষীকান্ত রায় রাণীরবন্দর সুইহারিবাজার থেকে ওই ভূয়া ডিবি পুলিশ আল-আমিন শেখকে আটক করে এবং তাদের বাড়িতে আটকিয়ে রাখে।

আরো জানা গেছে, ভূয়া ডিবি পুলিশ আল-আমিন শেখ নশরতপুর গ্রামের মরহুম রমজান আলী শাহ্র ছেলে কামরুজ্জামান ওরফে কাজলের সাথে খানসামা উপজেলার কুমড়িয়া গ্রামের ইউসুফ আলীপাড়ার (বানিয়াপাড়া) তজর আলী ওরফে তজের ছেলে সাইদুল ইসলাম আল-আমিন শেখকে পরিচয় করিয়ে দেয়। এ সুবাদে আল-আমিন শেখ কাজলের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করে। এ ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরেই আল-আমিন শেখ কাজলকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২কোটি টাকার ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বিদেশি গরুর ফার্মের নামে তার ৫টি পাকাঘর ভেঙ্গে দিয়ে কাজ অসমাপ্ত রেখে পালিয়ে যায়। শুধু তাই নয়- কাজলের জমির কাগজপত্র নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে খানসামা উপজেলার কুমড়িয়া গ্রামের ইউসুফ আলীপাড়ার (বানিয়াপাড়া) সাইদুল, আল-আমিন শেখ ও কামরুজ্জামান ওরফে কাজলের নাম করে এফিডেভিটের মূলকপি আল-আমিন শেখ হাতিয়ে নেয়। অপরদিকে, আল-আমিন শেখ রফিকুল ইসলাম ওরফে হেলালের মেয়ে নাবিয়াত তাহরিম ওরফে লিজাকে পল­ী বিদ্যুতের চাকুরি নিয়ে দেওয়ার নাম করে তার পরীক্ষার কাগজপত্র ও মূল জন্ম নিবন্ধন কার্ডসহ টাকা হাতিয়ে নেয়। ভূয়া ডিবি পুলিশ আল-আমিন শেখকে গত ২৫ জানুয়ারি রাত ৯টায় চিরিরবন্দর থানা পুলিশে সোর্পদ করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

চিরিরবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনিছুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, আটক আল-আমিন শেখ মানুষকে চাকুরি দেয়ার কথা বলে ব্যবসা করত। চাকুরি প্রার্থীদের চাকুরি না হওয়ায় এবং টাকা ফেরত না দেয়ায় স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে থানায় সোর্পদ করেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

Related Articles

Back to top button
Close