সারাদেশ

চিরিরবন্দরে মাঠজুড়ে হলুদ আবরণ

চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: চিরিরবন্দর উপজেলার ফসলের মাঠগুলো এখন সরিষার হলুদ আবরণে ঢেকে গেছে। দৃষ্টি জুড়ে এখন হলুদ আর হলুদ। চারিদিকে সরষে ফুলের গন্ধে পাগল হয়ে ছুঁটছে মৌমাছির দল। তারা দল বেঁধে মধু আহরণে ব্যস্ত। মৌমাছির মধূ আহরণের দৃশ্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর। এ যেন এক স্বপ্নের হলদে রাজার দেশ। আর ক’দিন পরেই হলুদ ফুল ঝরে গিয়ে ছোট ছোট দানায় ভর্তি সবুজপত্র মঞ্জুরি বের হবে। তখন সবুজে সবুজে ছেঁয়ে যাবে ক্ষেত। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের জমিতে এখন হলুদ ফুলের সমাহার। সর্বত্রই ব্যাপকভাবে সরিষার আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুল ও শীত বেশি থাকায় এবার সরিষার বাম্পার ফলনের আশা চাষিদের।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলায় বারি-১৪, বারি-১৫, টরি-৭ এবং সম্পদ প্রজাতির সরিষার আবাদ হয়েছে। এবছর ৩৯৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রতি হেক্টরে ১.২৩ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

উপজেলার নশরতপুর গ্রামের কৃষক খবিরউদ্দিন জানান, সরিষার চাষাবাদ করতে তেমন খরচ হয় না। কেবল সঠিক পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। অমরপুর ইউনিয়নের সন্তোষপাড়ার মোকছেদ আলী, আব্দুলপুর ইউনিয়নের নান্দেড়াই গ্রামের মমিনুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম জানান, আমন ফসলের পর বোরো ফসলের পূর্বে সরিষা আবাদ শুরু হয় এবং বোরো ধান রোপনের আগেই এ ফসলটি ঘরে উঠে আসে। তারা আরো জানান, মাঠ পর্যায়ে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে যথাযথ পরামর্শ ও প্রত্যক্ষ কারিগরি সহযোগিতার কারণে সরিষাক্ষেত রোগ-বালাই মুক্ত রয়েছে। তাছাড়া আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা। এছাড়াও সরিষার কচিগাছ শাক হিসেবেও খাওয়া যায়। মৌসুমের শুরুতেই চাষিরা সরিষার কচিগাছ শাক হিসেবে বিক্রি করে কাঁচা পয়সা লুফে নেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মাহমুদুল হাসান জানান, এ বছর সরিষা চাষে সার ও বীজের কোন সংকট ছিল না। সরিষা চাষ স্বল্পমেয়াদী ও লাভজনক হওয়ায় দিনদিন কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

Related Articles

Back to top button
Close