সারাদেশ

ঠাকুরগাঁওয়ে পালিত হল বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস

আরিফুজ্জামান আরিফ, ঠাকুরগাঁও । শিশুশ্রম বন্ধ করুন, এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ে পালিত হল বিশ্ব শিশুশ্রম দিবস। আজ ১২ জুন, বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠা ও রক্ষাকল্পে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বন্ধে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে একজোটে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করতে এই দিবসটি পালিত হয়। ১৯৮৯ সালের ২০ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ‘জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ’ অনুমোদিত হয়। ১৯৯২ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) শিশুশ্রম বন্ধ করতে এক কর্মসূচি হাতে নেয় এবং ২০০২ সালের ১২ জুন থেকে আন্তর্জাতিক শিশুশ্রম সংস্থা (আইএলও) বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহনের মাধ্যমে প্রতিবছর দিবসটি ‘বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ ৮০টি দেশ এ দিবসটি পালন করছে।

“শিশু” একটি নিষ্পাপ, হাসিমাখা মুখের প্রতিচ্ছবি। জাতিসংঘ প্রণীত শিশু অধিকার সনদে ১৮ বছরের কম বয়সী প্রত্যেককে শিশু বলা হয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনে (দণ্ডবিধির ব্যাতিক্রম ছাড়া) ১8 বছরের কম বয়সী প্রত্যেককে শিশু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই ১৪ বছরের মধ্যে সবাই এদেশের শিশু। জাতিসংঘের শিশু সনদ এখন একটি আন্তর্জাতিক আইন। এতে বলা হয়েছে, শিশুর বেঁচে থাকা তাদের জন্মগত অধিকার। এরই সঙ্গে শিশুর জন্য নিচের অধিকারগুলোর কথাও মনে রাখতে হবে আমাদের। স্নেহ, ভালোবাসা ও সমবেদনা পাওয়ার অধিকার। পুষ্টিকর খাদ্য ও চিকিৎসা সুবিধা পাওয়ার অধিকার। অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ।

পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার এক জরিপ অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকি রয়েছে মোট ৪৫ ধরনের কাজে। এর মধ্যে শিশুরা অংশ নিচ্ছে ৪১ টি ঝুঁকিপূর্ণ কাজে। সরকারের পরিসংখ্যান বিভাগের এক হিসাব মতে, দেশের মোট শ্রমিকের ১২ শতাংশই শিশু শ্রমিক। কম মজুরি, মাত্রাতিরিক্ত খাটুনি ও ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম নিয়ে উদ্বেগজনক অবস্থায় আছে দেশের শিশুশ্রম পরিস্থিতি। শিশুরা এসব কাজে নিয়োজিত থেকে অনেক সময়ই শুধু জীবন ধারণের খোরাকি পেয়ে থাকে, যা দয়া বলেও বিবেচিত হয় অনেক সময়। গত পাঁচ বছরে দেশে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে ১০ লাখেরও বেশি। মোট শিশু শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৮০ লাখ। সরকারি হিসাবে দেশে শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে শিশুশ্রমের প্রবণতা অনেক বেশি। শিশু শ্রমিকদের মধ্যে আবার ১৫ লাখ শহরে এবং ৬৫ লাখ গ্রামে কাজ করে। তাদের মধ্যে ৭৩ শতাংশ ছেলে এবং ২৭ শতাংশ মেয়ে। এ অবস্থায় শিশু অধিকার রক্ষায় করা আইন কতটুকু ভূমিকা রাখবে তা সহজেই অনুমেয়।

শিশুশ্রম নিরসনের লক্ষ্যে জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি ২০১০ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ নীতি বাস্তবায়নে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং শিশুশ্রমবিষয়ক কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাস্তবায়ন পরিলক্ষিত হয়নি। আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থা (আইএলও) ইতোমধ্যে, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ সংশোধন করলেও তা আন্তর্জাতিক শ্রমমানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে সংগতিপূর্ণ নয়, জেনেভা থেকে প্রচারিত আইএলওর এক বিবৃতিতে এমন অভিমত দেওয়া হয়েছে। অবশ্য আইএলও এই বিবৃতিতে সংশোধিত আইনে শ্রম অধিকারের ক্ষেত্রে সংস্থার কিছু উদ্বেগ দূর করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছে। বিবৃতিতে আইএলও বলেছে, বাংলাদেশ সরকার আইএলওর যেসব সনদ অনুসমর্থন করেছে, সে অনুযায়ী এবং সরকারের অঙ্গীকার প্রতিপালনের লক্ষ্যে সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে শ্রম আইনে বাড়তি কিছু সংশোধনী আনতে হবে।

সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালনের জন্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রত্যেক জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close