সারাদেশ

ঠাকুরগাঁওয়ে শরবত বিক্রি করে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার মালিক এখন সিদ্দিক

আরিফুজ্জামান আরিফ, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি ।। জ্যৈষ্ঠের খরাতাপ আষাঢ়ে এসেও যেন থেমে নেই রোদ্রের দাবদাহে এখনো মনে হয় গাঁ পুড়ে যায়। পানির তৃষ্ণা যেন ক্লান্ত পথচারীর বুক চিরে যাচ্ছে। ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত জীবনের অবসাদ ঘটিয়ে প্রানের নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করতেই নি:সর্গীয় স্বাদ ও দাবদাহ থেকে নিজেকে খানিকটা স্বস্তি দিতে ভীড় জমাচ্ছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বড় খোচাবাড়ী বাজারে সিদ্দিকের শরবতের দোকানে।

যেন এক গ্লাস বেলের তৈরি শরবতেই এনে দিবে ক্লান্ত পথিকের নতুন এক প্রাণের সঞ্চার। এ দোকানের যে শরবত অন্যান্য শরবতের চেয়ে একদমই ব্যতিক্রমী। তাইতো দুর-দুরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসে সিদ্দিকের দোকানে এ শরবত পান করার জন্য।

ভিড় যখন একটু থামলো কাছে গিয়ে জানতে চাইলাম নাম কি, মুখের কোণে সামন্য হেসে বললেন সিদ্দিকুর রহমান। বাসা আঠাইশ মাইল। কতদিন থেকে শরবত বিক্রি করছেন উত্তরে বলল প্রায় পনেরো বছর থেকে এ শরবত বিক্রি করছি। এর পর থেকে সিদ্দিকের জীবনের অজানা সব কথা দিয়ে শুরু হল তার সাথে আলাপ। ৫০বছর বয়সী এ শরবত বিক্রেতা বলেন, যখন আমার ঘরে ১ কেজি চাল কেনার মতো টাকা ছিলনা তখন দিকবেদিক হারিয়ে অনেক জায়গায় ছুটাছুটি করছিলাম কেউ আমাকে সহযোগীতা করেনি। অনেক সময় চাল না কিনতে পারলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে উপোষ থাকতে হতো। এর পরে ২০০১সালে কোন রকম টাকা জমিয়ে ৮শ’টাকা দিয়ে শরবতের একটি দোকান দিলাম বড় খোচাবাড়ী হাটে। সেই থেকে শুরু করলাম জীবনের নতুন একটি অধ্যায়। ব্যবাসায় যখন লাভ হতে লাগলো এর পর একেক করে দোকান বড় করতে শুরু করলাম। নিজ গ্রাম আঠাইশ মাইলে ও আরেকটি দোকান দিলাম। কিছু জায়গা জমি’ন কিনলাম। পরে একেক করে ব্যবসাও পুজিঁ বৃদ্ধি করতে লাগলাম। এখন আল্লাহ দিলে আমার ৫০ লাখ টাকার উপরে সম্পত্তি আছে। পরিবারে সদস্যদের কথা বলতে গিয়ে সিদ্দিক বলেন, আল্লাহ দিছে ৩ ছেলে ৪ মেয়ে’। মেয়েদের সব বিয়ে দিয়ে দিছি। আর ২ছেলে’রে বিদেশে পাঠিয়েছি। ছোট ছেলে পড়াশুনা আর আমাকে দোকানে সাহয্য করে। বাড়ীর পাশে চার একর জমির জুড়ে একটি পুকুর খনন করছি সেখানে মাছ চাষ করছি। আশা করছি বছরে সেখান থেকে ২৫-৩০ লক্ষ টাকার মতো আয় হবে।

সিদ্দিকের বাকী জীবনের শেষ ইচ্ছে কি জানতে চাইলে বলেন, আমি মানুষের সারা জীবন আমার এ শরবত পাণ করাতে চাই। যেন সবাই আমার জন্য দোয়া করে। তাহলে হয়তো আমি পরকালে শান্তিতে থাকতে পারমু।

Related Articles

Back to top button
Close