বগুড়ার-সংবাদমহাস্থান

বগুড়া শিবগঞ্জে বিদেশী সবজি বাগান চাষ করে সাফল্য কৃষক মিজানুর রহমান

মহাস্থান(বগুড়া)প্রতিনিধি: বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা এই প্রথম বিদেশী সবজি বাগান গড়ে তোলেছেন মোকামতলার টেপাগাড়ী গ্রামের মিজান। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধীপ্তরের প্রাক্তান উপপরিচালক কৃষি বিদ মোঃ আব্দুর রউফ স্যারের পরামর্শের উপর সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। প্রথমে ৭ বিঘা জমির উপর একক প্রচেষ্টায় শুধু মাত্র বিদেশী সবজির এই বাগান প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে থাইল্যান্ড, অস্ট্রোলিয়া, চায়নাসহ অন্যান্য দেশের ২৭ ধরনের সবজি চাষ হচ্ছে। প্রিয়জনের মতো অতি আদর যত্নে সবজি ফলাচ্ছেন। সবগুলো সবজি সু-স্বাদু ও ঔষোধি গুণাগুন সমৃদ্ধ। সবজি চাষ করে মিজান নিজের বেকারত্ব গুচিয়েছেন। পারিবারিক ভাবে সে লাভবান হচ্ছেন। বিদেশী এসব সবজির সাথে এ অঞ্চলের মানুষ পরিচিত না হলেও দিন দিন এর চাহিদা বাড়ছে। এই সবজিগুলো প্রথমে বগুড়ার টাচ এন্ড টেক ও রেড চেলিস, নাজ গার্ডেন, বিভিন্ন ফাস্ট ফুড এবং চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট গুলোতে সরবারাহ করত। ২০০২ সাল থেকে ঢাকা, চিটাগাং শহরে বিভিন্ন সাপাই আরদের সব ধরনের সবজি সরবরাহ করে আসছেন। এখন তার জমির পরিমান ১৭ বিঘা দাঁড়িয়েছে। হরেক রকম বিদেশী সবজির সমাহার। এই সবজি গুলো দেখার জন্য বিভিন্ন উপজেলার কৃষক-কৃষাণী ক্ষেত পরিদর্শন করেন। এবং উৎপাদনের কলা কৌশল বিনিময় করেন। এই সবজির ফার্মে শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি অফিসার আব্দুর রাজ্জাক এর সাথে কথা বলিন দৈনিক মহাস্থান প্রতিনিধি নুরনবী রহমান, তিনি জানান নিয়মিত ক্ষেত পরিদর্শন করেন এবং দিক নিদের্শনার পরামর্শ প্রদান করে থাকেন।

গত ২০০১ সালে মিজান এস এস সি পরীক্ষা দেন। তারা তিন ভাই-বোন, বাবা আব্দুল মান্নান। পড়াশুনা তার বেশি এগোয়নি। মিজানের স্বপ্ন ছিল নতুন কিছু করার। নতুন স্বপ্ন নিয়েই মিজান উদ্যেগ নেন বিদেশী শাজ-সবজি চাষ করার। নিজের জমি না থাকলেও মিজান থেমে থাকেননি। অন্যের জমি লিজ বা বরগা নিয়ে তিনি বাগান গড়ে তুলেছেন। এখন প্রতি বিঘা জমি বছরে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা হিসাবে লিজ বা বরগা নিতে হয়। গত ষোল বছর ধরে ধীরে বাগান গড়ে তুলেছেন। প্রথমে ৭ বিঘা জমি নিয়ে চাষ শুরু করেন এখন ১৭ বিঘা দাড়িয়েছে। বিদেশী সবজি গুলির নাম রেড কেবিজ, ব্রোকলি, সিমলা চিলি, লেটুসপাতা, ক্যাপসিক্যাম, স্যালারিপাতা, লেমনপাতা, প্যাকছাই, সুইটকর্ণ, বেবিকর্ণ, চেরি টমেটো, ¯প্রা গাছ, স্কোয়াশ, থাই তুলশী, ফ্রেন্স বিন, থাই আদা, কারিপাতা, চাইনিজ পাতা, লিকপাতা, বাংচিং, রুটবিট, গাজর, শালগম, ওলকপি, থাইলেবু, পুদিনাপাতা, পাসলিপাতা এই সর্বমোট ২৭ প্রকারের শাক-সবজি চাষ হচ্ছে এই বাগানে। মিজানের বাগানের উৎপাদিত সবজি প্রতিদিনই যাচ্ছে ঢাকা, চিটাগাং, সিলেট সহ উত্তর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় চাইনিজ রেষ্টুরেন গুলোতে। এর যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। এগুলোর দাম বেশি হলেও চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এই সবজি গুলো কীটনাশক মুক্ত। এখন সে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরের সুপারস্টোর গুলোতে সরবরাহ করে। এখন তার বাৎসরিক আয় প্রায় ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকা।

Related Articles

Back to top button
Close