সারাদেশ

বাংলাদেশের প্রাচীন নগরী বগুড়ার মহাস্থানগড়

সাহাব উদ্দিন রাফেল : মহাস্থান গড় বাংলাদেশের একটি প্রাচীন পুরাকীর্তি। চীন সভ্যতার লীলাভূমি এই স্থানটি ছিলো একদা বাংলার রাজধানী। তখন এলাকাটির নাম ছিলো পৌন্ড্রবর্ধন। পরিবর্তীতে নামের সামান্য পরিবর্তনে হয় পুন্ড্রবর্ধন।তরু ছায়াঘেরা শ্যামলিমা পরবেষ্টিত পরিবেশ সবাইকে মুগ্ধ করবে। খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতকের বাংলার এই বিশাল সভ্য এলাকায় আরো রয়েছে একটি জাদুঘর, গোবিন্দ ভিটা, জাহাজ ঘাট, ধোপার ভিটা, বেহুলা-লখিন্দরের বাসরঘর নামক উঁচু ভিটা, রয়েছে শাহ সুলতান (র.)-এর মাজার, এর পাশেই রয়েছে বিশাল মসজিদ ইত্যাদি।জানা যায় সেন বংশের শেষ  রাজা লক্ষণ সেন ১০৮২-১০২৫ যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল।

মহাস্থানের রাজা ছিলেন নল যার বিরোধ লেগে থাকতো তার ভাই নীলের সাথে। এসময় ভারতের দক্ষিনাত্যর শ্রীক্ষেত্র নামক স্থান থেকে এক অভিশপ্ত ব্রহ্মমন এখানে আসেন পেপার প্রায়চিস্ত করতে। কারণ তিনি পরশু বা কুঠার দ্বারা মাতৃ হত্যার দায়ে অভিশপ্ত ছিলেন। পরবর্তিতে তিনিই এই দুই ভাইয়ের বিরোধের অবসান ঘটান। এবং রাজা হন।

এখানে ,কিংবদন্তী হয়ে আছে, শাহ সুলতান বলখী (র.) এখনো লোকে বলে এমনকি লোক মুখে শোনা যায়- মাছের পিঠে করে এ অঞ্চলে এসেছিলেন সে জন্য বলা হয় মাহীসওয়ার। ইতিহাসবিদগণ বলেছেন, সেই সময় প্রমত্তা করতোয়ায় মাছ আকৃতির নৌকায় করে এসেছিলেন তিনি। সেদিনের সেই খরস্রোতা করতোয়া আজ শীর্ণকায় এক নদী। পুরো খালের মতো অবস্থা এখন এই নদীটির। যা দেখা যাবে মহাস্থানে।

গড়ের একাংশে চোখে পড়বে ইঁদারা। বলা হয় জীয়তকুন্ড। জনশ্রুতি চালু হয়েছে, রাজা পরশুরামের সৈন্য নিহত হলে এই জীয়তকুন্ডে ফেলে দিলে জীবিত হতো। পরে জীয়তকুন্ডের কথিত অলৌকিক কান্ড লোক মুখে প্রচারিত হয়। এবং তখন দিনে লোকেরা এটা বিশ্বাস করতো।নিরিবিলি পর্যটন মোটেলটা বগুড়া শহরের প্রবেশের পথেই, তবে পর্যটক আকর্ষণের জন্য এখন যাহা আছে তাহা বিশেষ আধুনিক নয়, তাই পর্যটক আকর্ষণের জন্য আরও আধুনিক কিছু ব্যবস্থার বিশেষ দরকার।

Related Articles

Back to top button
Close