গাবতলীবগুড়ার-সংবাদ

রূপকাথায় ভরপূর বগুড়ার হযরত শাহ্ সুলতান বলখী (রহঃ)এর মহাস্থানগড়

গাবতলী(বগুড়া) থেকে আতাউর রহমান ঃ

শিবগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত বগুড়া শহর থেকে ১১ কিলোমিটার উত্তরে করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত এ পট ভূমিকে মহাস্থান গড় বলা হয়। এখানে শায়িত আছেন হযরত শাহ্ সুলতান বলখী (রহঃ)। আছে তাহার স্মৃতি বিজরীত মাজার ও মসজিদ, আসে হাজার হাজার মাজার জিয়ারতকারী ও ভক্ত-আশেকান, এ পটভূমিতে অবস্থিত প্রত্মতাত্তি¡ক যাদুঘর, বহুল আলোচিত বেহুলার বাসরঘর, ভাসুবিহার, হিন্দু সম্পদায়ের তীর্থস্থান শিলাদেবীর ঘাট, রয়েছে জীয়ন্তকুপ যে কুপে মৃত্যূ মানুষ ফেলে দিলে জীবিত হত বলে প্রবাদ রয়েছে। মহাস্থানগড়ের পশ্চিম দিকে কালীদহ সাগর, এ সাগরকে কেন্দ্র করে পদ্মাদেবীর ইতিহাস রচনা করা হয়েছে।

এছাড়া রয়েছে নানা নিদর্শন। এ নিদর্শন গুলো দেখার জন্য দেশ-বিদেশ থেকে আসে হাজার হাজার দর্শনার্থী। প্রাচীন সভ্যতার মূল পটভূমি এই মহাস্থান নগরী, যাকে বলা হয় পূন্ড্রবর্ধন বা পূণ্ড্রনগরী। এ পুণ্ড্রনগরী প্রাচীন বাংলা রাজধানী ছিল। এখানে অনেক রাজা রাজত্ব করেছেন। এখানে ৬৫০ খ্রীঃ থেকে ১২০৫ খ্রীঃ পর্যন্ত ৮ রাজ পরিবার রাজত্ব করেছেন। হিন্দু শাসক রাজা পশুরামের ১১৮০-১২০০ খ্রীঃ মধ্যে আগমন ঘটে। তার পর একজন মুসলিম ধর্মযাজকের আগমন ঘটে তিনি আসেন সুদুর বল­খ শহর থেকে মাছের পিঠে সওয়ার হয়ে তথকালীন রাজা পশুরাম এর অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করে যুদ্ধ ঘোষনা করে এ পটভূমিকে মুক্ত করে ইসলামের ঝান্ডা উড্ডয়ন করেন। সেই থেকে এই নগরীতে ইসলামের পতাকা পতপত করে উড়ছে। প্রাচীনকাল থেকে এই পটভূমিকে মহাস্থনগড় নামে আখ্যায়ীত করা হয়। মুরব্বীদের মুখে শোনা যায় মহাস্থান গড়ে সারা বিশ্বের আড়াই দিনের খাবার রয়েছে। বর্তমানে মহাস্থান গড়কে উত্তর বঙ্গের গেটওয়ে বলা হয়। ঐতিহাসিক নিদর্শন ছাড়াও বর্তমানে রয়েছে বাংলাদেশের প্রথম মসলা গবেষনা কেন্দ্র, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, আলীম মাদ্রাসা, বিপিএড কলেজ, বিএম কলেজ, উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বেসরকারী কিন্ডার গার্টেন স্কুলসহ অনেক বিদ্যাপিঠ, ব্যাংক বীমা সহ অসংখ্য সরকারী/বেসরকারী নানামুখি প্রতিষ্ঠান। তবুও ঐতিহাসিক এ মহাস্থান নগরী যেন অপরিপূর্ণ! কোথাও যেন কি নেই? এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী দেখতে আসে এ নিদের্শন গুলো কিন্তু বিশ্রাম নেওয়ার মত তাদের কোন আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র, আবাসিক হোটেল বা কোন একাডেমী ভবন নেই।

বর্তমান সরকার দেশের প্রত্মতাত্তি¡ক নিদের্শন দর্শনীয় স্থান গুলো সংঙ্করণ ও সংরক্ষন করে অধুনিক রূপে আন্তজাতিক মান সম্পূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রকল্প হাতে নেওয়ায় এ এলাকার জনসাধারণের মধ্যে আশার আলো প্রতিফলিত লক্ষ করা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে সংসদ ও সংসদের বাহিরে সরকারের উর্দ্ধতন নীতি নিদ্ধারকরা তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে এ আশার সংচলনকে আরো বেগবান করে তুলেছে। ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে বাজেটের একটি অংশও নিধারণ করতে দেখা গেছে মহাস্থান যাদুঘরে একটি ওভার ব্রীজ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে সরকার ও বিরোধী দলের যৌথ্য প্রচেষ্টায় মহাস্থানগড়কে নতুন রূপে সু-সজ্জিত করে আন্তজাতিক মানে রূপান্তরিত করবে। এ ব্যাপারে সবকিছু বিশ্লেষন করে বর্তমানে এলাকার সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ্ বিরোধী দলীয় সাংসদ হলেও তার উদার মুক্ত চিন্তাধারায় মহাস্থানগড়কে কেন্দ্র করে নানামুখী উন্নয়ন মূলক কাজ হাতে নিয়েছেন বলে জানা যায়। তারি ধারাবাহিকতায় সংসদে তিনি একটি আলোচনাও উত্থাপন করেন। আগামীতে এ ব্যাপারে আরো জোরালো ভূমিকা রাখবেন বলে এলাকার জনসাধারণ মনে করেন।

এই মহাস্থানগড় এলাকায় অনেক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন। তাদের স্মৃতি ধরে রাখার মত কোন শহীদ স্মৃতিসৌদ্ধ নেই বা কোন শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নেই। যা শহীদ চেতনাকে চিরজীবী করে রাখবে। শহীদ পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধাদের নেই কোন সংগঠন বা সংসদ, না আছে কোন বসার জায়গা। এই মহাস্থান গড় নগরীতে ১৯৭১ইং সালের মহান মুক্তিযোদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাক হানাদার বাহিনী মহাস্থান গড়ের পাদমূলে মহাসড়কের ধারে বাঙ্কার খুরে অবস্থান নিয়ে তারা অত্র এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নিঃশেষ করার প্রয়াস চালালে তা প্রতিরোধ ও প্রতিহত করতে তাদের সাথে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর তিন দিন সমুক্ষেযোদ্ধা সংগঠিত হয়। মুক্তিযোদ্ধা, মিত্রবাহিনীর সদস্য সহ সাধারণ মানুষ প্রায় অর্ধশতাধিক শহীদ হন এবং অনেকে আহত হন। কিন্তু সেই শহীদের স্মৃতির স্মরণে কোন স্মৃতিস্তম্ভ অধ্যবধি ঐতিহাসিক মহাস্থান গড় নগরীতে নির্মিত হয় নাই। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অত্র এলাকার উৎসর্গকারী বীর শহীদের স্মৃতির চির অম্লান করে রাখার মহান লক্ষে উত্তর বঙ্গের গেটওয়ে ঐতিহাসিক মহাস্থান গড়ের পদমূলে একটি শহীদ স্মৃতিসৌদ্ধ বা শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান ও পাশে মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্বজনদের বসার জন্য একটি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন বা সংসদ নির্মাণ করার ব্যবস্থা গ্রহন করিতে বর্তমান বীর মুক্তিযোদ্ধ সংসদ সদস্যকে সু-দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রাচীন সভ্যতার মূল পটভূমি এই মহাস্থান নগরীতে উপরোক্ত অসমাপ্ত কাজ গুলো সমাপ্ত হলে এ নিদর্শন গুলো দেখার জন্য দেশ-বিদেশ থেকে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়বে। ফলে এ নগরী বানিজ্যিক নগরী তথা প্রাচীান রাজধানী হিসাবে রূপান্তিত হবে। ব্যবসা-বানিজ্য প্রসারিত হবে ও সরকাররের রাজস্ব বাড়বে।

Related Articles

Back to top button
Close