বগুড়ার-সংবাদশিবগঞ্জ

শিবগঞ্জে স্ত্রীর স্বীকৃতি পেতে গিয়ে স্বামী কর্তৃক অমানবিক নির্যাতন ॥ এলাকায় তোলপাড়

শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ শিবগঞ্জে স্ত্রীর স্বীকৃতি পেতে গিয়ে স্বামীর পরিবার কর্তৃক অমানবিক নির্যাতন, সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যমসহ এলাকায় তোলপাড়।

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার অনন্তবালা গ্রামে শিল্পী (৪০) নামে এক নারী নির্মান শ্রমিক রাফি নামে অপর এক নির্মান শ্রমিককে স্বামী দাবী করায় স্বামী রাফি ও তার পরিবারের লোকজন কর্তৃক অমানবিক নির্যাতনের খবর পাওয়া গেছে। জমিতে কপির চারা চুরির অপবাদ দিয়ে ওই নারীকে কপির জমিতে একটি বাঁশের সাথে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে অমানবিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। পরে রাফির পরিবারের লোকজন শিল্পীকে শিবগঞ্জ থানায়ও সোপর্দ করে।
নির্যাতিত নারী অভিযোগ করে প্রতিবেদক কে বলেন, অনন্তবালা গ্রামের শহিদুলের পুত্র রাফি তাকে ৮/৯ মাস পূর্বে বিবাহ করে ঠেঙ্গামারা এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করে। ১৫/২০ দিন ধরে রাফি তার স্ত্রী শিল্পীর খোজখবর না নেয়ায় সে শুক্রবার সকালে অনন্তবালা গ্রামে রাফির বাড়িতে গেলে রাফি ও তার পরিবারের লোকজন ক্ষেতের মধ্যে বাঁশের সাথে দড়ি দিয়ে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় শিল্পীকে নির্যাতন করে।

শিল্পী বগুড়া সদরের পলাশবাড়ী গ্রামের আবুল হোসেন এর মেয়ে। নির্যাতিত শিল্পী জমিতে কপির চারা চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে
রাফি ও তার পরিবারের লোকজন ষড়যন্ত্র করেছে। এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানার ওসি মোঃ মিজানুর রহমান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে শিল্পীকে ভ্রাম্যমান
আদালতে পাঠানো হয়। তবে আদালত তাকে কি সাজা দিয়েছে তা তিনি খোজ নিতে পারেনি। শিল্পীকে নির্যাতন করে তাকেই থানায় সোপর্দ করায় এলাকাবাসীর মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়েছে।

রায়নগর ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম সফি বলেন, একজন আমাকে ফোন দিয়ে বলেন জমিতে কপি তুলে ফেলেছে এরকম একজন নারীকে বেঁধে রাখা হয়েছে। পরে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করি। থানা অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান মিজান আরো বলেন, মহিলাটিকে আমরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নিয়ে এসেছে। মহিলার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হলে পরিবারের কেউ আসেনি। মহিলাকে মামলা করতে বলা হলেও মামলা করতে রাজি হননি। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে তোলপাড় সৃষ্টি হওয়ায় আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি এটি।
বর্তমানে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Related Articles

Back to top button
Close