বগুড়ার-সংবাদসারিয়াকান্দি

সারিয়াকান্দি হাটের জায়গা অবৈধ স্থাপনায় ভরে গেছে বিরাম্ববনার শিকার মানুষ

মো: জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি: দেশে যখন জমিদারি প্রথা চালু ছিলো, তখনি ১৪০ শতক জমির উপর গোড়া পত্তন হয় ঐতিহ্যবাহী সারিয়াকান্দি হাটের। তখন থেকেই ঐতিহ্য ও সুনামের সহিত এবং সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়ে আসিতেছিলো এই হাটটি। দূরের ও কাছের ছোট বড় ব্যবসায়ীরা পসরা বিছিয়ে ব্যবসা কার্য চালাত। চারি দিকের গ্রাম থেকে শোনা যেত হাটের গোমগোম গুন গুন শব্দ। বর্তমানে সারিয়াকান্দি হাটের সেই অবস্থা আর নেই।

প্রতক্ষদর্শি ব্যবসায়ী সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত হাটের অবস্থা ভালোছিল কিন্তু পরবর্তী সময়ে হাটের জন্য নিযুক্ত ইজারাদার কর্তৃক অসাধু কিছু ব্যবসায়ী যোগ সাজস করে টাকার বিনিময়ে হাটের জায়গা দখলে নেয়। কয়েক বছরের মধ্যেই হাটের সমস্থ জায়গা অসাধু ব্যবসায়ীদের দখলে চলে যায়। দখল কৃত জায়গায় তারা গড়ে তোলে ব্যক্তিগত অবৈধ স্থাপনা বা দোকান ঘর। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও অবৈধ দখল দারিত্বের সুযোগ হাত ছাড়া করেননি। মাছ বাজার এলাকা এবং আশপাশ সেই দৃশ্য বহণ করছে। হাট ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারী অর্থায়নে নির্মিত ২কক্ষ বিশিষ্ট্য ১ তালা ইটের ঘরটিও রয়েছে দুটিশ্রমিক সংগঠনের দখলে। অবৈধ ভাবে নির্মিত দোকান ঘরে কেউ নিজে ব্যবসা করছে আবার কেউ কেউ মোটা অঙ্কের টাকা জামানত নিয়ে অন্যত্রে ভাড়া দিয়েছে।

অপরদিকে সরকারী অর্থায়নে নির্মিত বৃহৎ আকারের চারটি ঘর রয়েছে মুষ্টিমেয় ব্যবসায়ীর দখলে। ওই সব দখলদার ব্যবসায়ীরা ঘরের মধ্যে ঘর নির্মাণ করে চালিয়ে যাচ্ছে ব্যবসা। তারা আরাম আয়েসে ঘরে বসে ব্যবস্যা করলেও বৃষ্টির দিনে সাধারনের বৃষ্টিতে ভেজে কেনা কাটা করতে হয়। ক্রেতাদের দাড়ানোর মতো কোন জায়গা সারিয়াকান্দি হাটে নেই। মুষ্টিমেয় কিছু ব্যবসায়ী ব্যক্তি হাটের সবোর্চ্চ সুবিধা ভোগ করলেও সমাজের বিরাট অংশ হাটের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অবৈধ দখলদার একজন মুদি দোকানদার বলেন প্রথমে তিনি ২টি জায়গা ইজারাদারকে ৩ হাজার টাকা দিয়ে দখলে নেয়। ৪ বছর পর একটি জায়গা ১০ হাজার টাকায় অন্য ব্যবসায়ীর কাছে হস্ততান্তর করে । সেই ব্যবসায়ী আবার বিদেশে যাওয়ার জন্য আরেক জনের কাছে ২০ হাজার টাকায় হস্ততান্তর করে বিদেশে চলে যান।বর্তমানে অবৈধ দখল হস্ততান্তর মূল্য ২ থেকে ৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রবীন ব্যক্তি বলেন হাটের কিনারা দিয়ে যারা আবাসিক স্থাপনা বা ঘর বাড়ি নির্মাণ করেছে তাদের সকলেই কমবেশী হাটের জায়গা দখল করেছে। এই ব্যপারে সারিয়াকান্দি বর্ণিক সমবায় সমিতি লিঃ এর সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের কমিশনার মামুন তরফদার বলেন, ব্যবসায়ীরা
অনেকে আমাদের সমিতির সদস্য কিন্তু তারা হাটের জায়গা অবৈধ ভাবে দখল করেছে এটাও সত্য। তাদের দখলের বৈধ কোন কাগজ পত্র আমার জানা মতে নেই।
সরকারী ভাবে উচ্ছেদের ব্যবস্থা করলে আমরা স্বাগত জানাবো। এই হাটটি যদিও পৌরসভার আন্ডারে আমরা উপযুক্ত সময়ে সরকারী বিধি অনুসরণ করে হাটের ডাক
দিয়ে থাকি। সবোর্চ্চ দরদাতা হাট পায় এবং তারাই হাট দেখা শোনা করে। তাছাড়া পৌরসভার প্রতিষ্ঠার অনেক আগেই হাটের জায়গা অবৈধ দখলদারদের কবলে
চলে গেছে। মানবিক কারনে পৌরসভার পক্ষ থেকে কোন হস্তক্ষেপ করা হয়নি। তবে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা উচিত। হাট কমিটির সদস্য ও পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের
কমিশনার সোহেল বলেন, হাটের দক্ষিণ ধারে কিছু জায়গা ভূমি অফিসের। হাটের জন্য নির্মিত সরকারী ঘর ছাড়া সমস্থ জমি অবৈধ দখলদারদের কবলে ।

এগুলি উচ্ছেদ হওয়া খুবিই জরুরী বলে আমি মনে করি। কাজলা চরের কালাই বিক্রতা রহিম উদ্দিন, সরিষ্য বীজ বিক্রেতা শাহার আলী, গানজে ধানের তারা বিক্রেতা মালেক বলেন, শনি ও মঙ্গলবার ২দিন সারিয়াকান্দি হাট বসে। কিন্তু আজ শনিবার আমরা হাটে এসে আমাদের এই জিনিস গুলো কোথায় বিক্রয় হচ্ছে সেই জায়গাই খোজে পাচ্ছিনা। কেউ বলছে থানা মোড়ে রাস্তার উপর, কেউ বলছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাস্তার উপর, এই ভাবে ঘোরাপেড়া করতেই আমাদের কষ্ট হচ্ছে। হাটের নিদির্ষ্ট কোন জায়গা না থাকায় বিক্রেতা ও ক্রেতা সাধারণের বিরম্বনায় পরতে হয়।তাছাড়াও রাস্তার উপর হাট বসার কারনে চরম যানযটের সৃষ্টি হয়। এতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের কাজ কর্ম সমাধান করতে হয়।

যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট এলাকার সচেতন মহলের দাবি সারিয়াকান্দি হাটের অস্তিত্ব ও ঐতিহ্য টিকে রাখতে সকল প্রকার বেআইনী অবৈধ দখল ও স্থাপনা উচ্ছেদ পূর্বক সকলের জন্য হাটকে উন্মুক্ত করা হোক।

Related Articles

Back to top button
Close