সোনাতলা'র সংবাদ

সোনাতলার পাঠানপাড়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষঃ আহত ২০ পুলিশের গুলি বর্ষণ ১৪৪ ধারা জারি

সংবাদ আজকাল ঃ সোনাতলার দিগদাইড় ইউনিয়নের পাঠানপাড়ায় শনিবার সকালে দুই পক্ষের সংঘর্ষে চার জন গুরুতরসহ অন্তত ২০জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ফোর্স ২৫ রাউন্ড শর্ট গানের গুলি বর্ষণ করে। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রথম শ্রেণীর নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে গিয়ে দুপুর ১টা থেকে ৩ মার্চ সকাল ১০টা পর্যন্ত ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,গত ৩১মার্চ ২য় দফা ইউনিয়ন পরিষদে ইউপি সদস্য পদে পাঠানপাড়া গ্রামে সেলিম হোসেন ও আব্দুস সামাদ প্রতিদ্ব›দ্বীতা করেন। নির্বাচনে আব্দুস সামাদ জয় লাভ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার বিকেলে সেলিম হোসেন ও তার লোকজন
আব্দুস সামাদের কিছু লোকজনের সাথে দুর্ব্যবহার করে। এ ঘটনার রেশ ধরে একইদিন রাতে উভয় পক্ষে সংঘর্ষ বাঁধে।পরদিন সকালে আব্দুস সামাদের লোকজন পাঠানপাড়া বিলের খাস জমিতে সেলিম হোসেনের লোকজন কর্তৃক রোপনকৃত কাঁচা ধান জোরপূর্বক কর্তন করতে গেলে উভয় পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ বেঁধে যায়।এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন লাঠিসোটা,দা-বটি,বল¬মসহ দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রতিপক্ষের বাড়ি-ঘরে আক্রমন শুরুকরে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ হয় অনেকের বাড়িঘর। সংঘর্ষে পাঠানপাড়া গ্রামের শাহেন আলী(৫০),কালু(৫০),ঠান্ডা(৪৫)ও মিঠু (৪০) গুরুতর আহত হয়। তাদেরকে সোনাতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বগুড়ার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ ঠেকাতে পুলিশ ফোর্স তৎপরতা প্রদর্শন করতে গেলে তাদেরকেও ইট-পাথর নিক্ষেপ ও ধাওয়া করে সংঘর্ষ করে। এ সময় পুলিশ ২৫ রাউন্ড শর্ট গানের গুলি বর্ষণ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত১৪৪ ধারা জারি করেন। বর্তমানে গ্রামটি জনশূন্য অবস্থায় রয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) সাব্বির আহম্মেদ সরফরাজ। এদিকে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যকার সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছে উপজেলার তেকানী চুকাইনগর ইউপির দাউদিয়ার পাড়া গ্রামের আব্দুল গণির পুত্র আশরাফুল ইসলাম। বর্তমানে সে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার অবস্থা আশংকাজনক। অপর দিকে উপজেলার দিগদাইড় ইউপির ৩নং ওয়ার্ডের বিজয়ী ও বিজিত প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘঠেছে। এ ঘটনায় বিজিত প্রার্থী নাজিম উদ্দীন খাজার লোকজন ভোট না দেওয়ার কারণে সংখ্যালঘু স¤প্রদায়ের লোকজনকে মারপিট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকালে ওই এলাকার সংখ্যালঘু সপ্রদায়ের লোকজন এই ঘটনার প্রতিবাদে সোনাতলা উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

Related Articles

Back to top button
Close