বগুড়ার ৬ হাজার পোল্ট্রি শিল্পে ধ্বস : সব বন্ধ হচ্ছে ১ ডিমের দামে ৫ বাচ্চা বিক্রি !

SangbadAjKalSangbadAjKal
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  11:48 AM, 15 April 2020

 

রায়হানুল ইসলাম, বগুড়া  :

বগুড়া জেলায় ৬ হাজারের অধিক পোল্ট্রি ফার্মে (শিল্প) ধ্বস নেমে এসেছে। পথে বসেছেন এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ঠ অর্ধ লক্ষাধিক ছোট বড় উদ্যোক্তা। করোনা ভাইরাসের কারণে আমিষের যোগানদাতা এ শিল্পটির উদ্যোক্তা ও মালিকরা ব্যাপক লোকসানের মুখে একে এক বন্ধ করে দিয়েছেন ফার্মগুলি।

যে দুএকটিও আছেন তাও বন্ধ হয়ে যাবে এক সপ্তাহের মধ্যে। তাদের উৎপাদিত মাংসের খরচ প্রতি কেজি ১৪০-১৬০ টাকা হলেও বিক্রি করতে হচ্ছে ১১০-১২০ টাকায়। একইসাথে ৯০টি হ্যাচারীতেও বাচ্চা উৎপাদন বন্ধ করেছেন মালিকরা। যেখানে একটি বাচ্চা উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ১০-১২ টাকা সেখানে প্রতিটি বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১ থেকে দেড় টাকায়। বগুড়ার সাবগ্রামের ছাতিয়ানতলার আল হাদি পোল্ট্রি ফার্ম এন্ড হ্যাচারীর সত্ত্বাধিকারী মামুনুর রশীদ মামুন জানান, দীর্ঘ দিনের ব্যবসায় এরকম লোকসান কখনো হয়নি।

প্রতি সপ্তাহে ৫০ হাজার বাচ্চা উৎপাদন করে চাহিদা মিটাতে পারিনা। অথচ এখন তিনমাসে অর্ধ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে আমাকে। গতকাল বাচ্চা বিক্রি করতে না পেয়ে রাস্তায় মুরগীর বাচ্চা ফেলে প্রতিবাদ জানান এই ব্যবকসায়ী। গাবতলীর দুর্গাহাটা আলিউল আজিম পোল্ট্রির সত্ত্বাধিকারী আসাদ প্রামানিক জানিয়েছেন, করোনার আতংকের পর হতে তার প্রায় ৫লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।

একই এলাকার সৃজন পোল্ট্রির ১০ লক্ষ, সুলতান পোল্ট্রির ৫ লক্ষ, মমিন পোল্ট্রির ৮ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মালিক পক্ষ জানিয়েছেন। পোল্ট্রি ওনার্স এসোসিয়েশন, বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক মোকলেছুর রহমান মুক্তার জানান, উৎপাদিত মাংসের খরচ প্রতি কেজি ১৬০-১৭০ টাকা হলেও বিক্রি করতে হচ্ছে ১৪০ টাকায়। একইসাথে বাচ্চা উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ১০-১২ টাকা সেখানে প্রতিটি বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১ থেকে দেড় টাকায়। এর সঙ্গে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ জড়িত। সবায় এখন পথে বসেছে।

সরকারের কাছে আমাদের দাবি এশিল্পকে বাচাতে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ। যাতে এ ক্ষতি পুষিয়ে আমরা আমিষের ঘাটতি পুরুন করতে পারি। হ্যাচারী

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ড. রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, সরকার ইতিমধ্যে পেলিট্র,হ্যাচারী, মৎসসহ কৃষি খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। এছাড়াও আমরা এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পোল্ট্রি ও হ্যাচারী শিল্পের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চেয়েছি। আশা করছি এ দুর্যোগ কাটিয়ে আমরা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারবো।

আপনার মতামত লিখুন :