করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে ঝুকিতে রয়েছেন যারা

rafel shahabrafel shahab
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  07:48 AM, 02 June 2020

আজকাল ডেক্স ঃ কোভিট-১৯ একটি নতুন রোগ এবং গুরুতর রোগের ঝুঁকির কাদের সে বিষয়ে তথ্য খুব কম। বর্তমানে উপলব্ধ  তথ্য এবং ক্লিনিকাল দক্ষতার ভিত্তিতে, বয়স্ক প্রাপ্তবয়স্ক এবং যে কোনও বয়সের লোকেরা যারা গুরুতর কোন অসুস্থতায় ভুগছেন কোভিড-১৯ এ তারা গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকিতে রয়েছেন ।

করোনাভাইরাস বা এই ধরনের সংক্রমণে বেশি ঝুঁকি কাদের? এককথায় বয়স্ক মানুষজন, যাদের বিপদের আশঙ্কা বেশি৷ কমবয়সি টগবগে ছেলেমেয়েদের বা সুস্থসবল মাঝবয়সিদের যেমন সংক্রমণের আশঙ্কা কম বা সংক্রমণ হলেও বিপদের আশঙ্কা তেমন নেই, তাদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা সে রকম নয়৷ একটু এদিক থেকে সেদিক হলে তারা ঝট করে রোগে পড়ে যেতে পারেন, অবস্থা জটিল হতে পারে৷ এমনকি, মারা যাওয়াও অসম্ভব নয়৷ করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ইতালিতে দেখা গেছে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৯০ শতাংশই আগে থেকে অন্য রোগে ভুগছিলেন। কাজেই যেকোনো বয়সী অসুস্থ ব্যক্তিরাও ঝুঁকিতে রয়েছেন।

তারপরও এ ভাইরাস সম্পর্কে এবং ভাইরাস থেকে তৈরি হওয়া অসুখ নিয়ে এখনও নানা বিভ্রান্তি রয়েছে। এ ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করে কী কী কার্যকলাপ ঘটায়, কোন কোন অংশে থাবা বসায় তা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। শরীরে যদি কয়েক ধরনের সমস্যা থেকে থাকে তাহলে সেই ব্যক্তিদের জন্য করোনা হতে পারে ভয়াবহ। অর্থাৎ ঝুঁকিতে তারাই বেশি।

ডায়াবেটিস: যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, অন্যদের তুলনায় তাদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। যুক্তরাজ্যের ডায়াবেটিস চিকিৎসক ডন হওয়ার্থ বলেন, করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ ডায়াবেটিসে ভুগতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য বিপজ্জনক। তিনি আরো বলেন, যদি কারো ডায়াবেটিস থাকে এবং কাশি হয়, শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, শ্বাসকষ্ট হয়; তাহলে ব্লাড সুগার মাঝেমাঝেই পরীক্ষা করে দেখা দরকার।

হার্টের সমস্যা: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের তালিকায় দুই নম্বরে রয়েছে হার্টের রোগীরা। কারণ, হার্টের সমস্যায় ভুগতে থাকা রোগীদের ইমিউন সিস্টেম এমনিতেই দুর্বল হয়ে থাকে। ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাদের শরীর শক্তিশালীভাবে তা প্রতিরোধ করতে পারে না।

অ্যাজমা: ফুসফুসের বাইরে ও ভেতরে বাতাস যাতায়াতে সাহায্য করে আস্ট্রা। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেহেতু অ্যাজমা রোগীরা এমনিতেই এ সমস্যার মধ্য দিয়ে যায়, করোনা ভাইরাস তাদের ঝামেলা আরো বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে অ্যাজমা রোগীদের ইনহেলার ব্যবহার করা উচিত। সচেতন না হলে প্রাণহানি ঘটতে পারে।

ফুসফুসে সমস্যা কিংবা যক্ষ্মা হলে: ফুসফুসে সমস্যা থাকলে কিংবা যক্ষ্মা হলে করোনা ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে যায়।

ক্যান্সার: ক্যান্সারের রোগীরা করোনাভাইরাসে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে। আর আক্রান্ত হলে সেরে ওঠা অনেক বেশি কঠিন। তাদের দুর্বল ইমিউন সিস্টেমকে সহজে কাবু করার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইবে না করোনাভাইরাস।

পাকস্থলীর সমস্যা: যাদের হজমে সমস্যা আছে এবং পাকস্থলী নিয়ে চরম বিপাকে রয়েছেন, করোনাভাইরাস তাদের কাছে যমদূতের মতো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা এ ধরনের সমস্যায় ভুগছেন, এ সময় তাদের বাড়তি সচেতন থাকা দরকার। করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করার মতো ইমিউন সিস্টেম এ ধরনের সমস্যায় ভুগতে থাকা ব্যক্তিদের নেই।

দুর্বল ইমিউন সিস্টেম: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলার মতো কোনো ভ্যাকসিন এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। একে প্রতিরোধ করার একমাত্র উপায় ইমিউন সিস্টেম। এজন্য প্যারাসিটামল না খাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তারা। তবে যাদের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল, তারা ঝুঁকিতে রয়েছেন।

ধূমপান: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্যদের তুলনায় ধূমপায়ীরা করোনাভাইরাসে আক্রান্তের ঝুঁকি ১৪ গুণ বেশি। সে কারণে এই দুঃসময়ে ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

তাছাড়া আরও আশঙ্কা আছে,

গুরুতর স্থুলতা আছে যাদের BMI ইনডেক্স ৪০ বা তার বেশি

দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে ডায়ালাইসিস করছেন এমন লোকেরা

লিভারের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা

অন্যান্যরা যারা:

গর্ভবতী মহিলা

গৃহহীন ব্যক্তি

আপনার মতামত লিখুন :