শিবগঞ্জে ময়দানহাট্টা ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক ৫০০ টাকা গ্রহ‌নের প্রমান পে‌য়ে‌ছে তদন্তকা‌রি কর্মকর্তা

rafel shahabrafel shahab
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  10:58 PM, 23 May 2020

‌রশিদুর রহমান রানা শিবগঞ্জ ( বগুড়া) প্রতিনিধিঃ প্রধানমন্ত্রীর গরীব‌দের ঈদ উপহার বিতরণের আগেই বগুড়ার শিবগঞ্জে ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের আ’ লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান এসএম রূপম মোবাইল ব্যাংকিং পরিসেবা বিকাশে অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার নামে অসহায় মানুষদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। নিজের লোক দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের ‘ট্যাক্সের নামে’ রশিদ মূলে প্রতিজনের কাছ থেকে ২৮০ ও সিমের মূল্য বাবদ ২২০ টাকা করে নেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জনাব আল মোজাহিদ সরকারের দাখিল করা প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলমগীর কবিরের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তিনি।

ইউএনও আলমগীর কবির তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে বলেন, ‘প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে সুপারিশসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।’

তি‌নি আ‌রো জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউপি চেয়ারম্যান এসএম রূপম ‘রাহী টেলিকম’ নামের একটি মোবাইলের দোকানের সঙ্গে যোগসাজস করে সিমের মূল্য হিসেবে ২২০ টাকা এবং ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্সের নামে রশিদ মূলে প্রতিজনের কাছ থেকে ২৮০ টাকা করে মোট ৫০০ টাকা আদায় করেন। সব মিলিয়ে প্রায় দেড় শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে এই টাকা আদায় করা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোরগোল বাধলে অর্ধেকের বেশি মানুষকে সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়। তবে এখনো অনেকেই সেই টাকা ফেরত পাননি।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবার মাধ্যমে কর্মহীন হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দে‌শে ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে এককালীন নগদ আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। জনপ্রতিনিধিরা এসব দরিদ্রের তালিকা তৈরি করেন। বগুড়া জেলার অন্য স্থানের মতো শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম রূপমও তার ইউনিয়নের ৫০৬ জনের তালিকা তৈরি করেন। বিকাশ হিসাব খুলে দেওয়ার নামে অসহায় মানুষদের কাছ থেকে সিমের ২২০ টাকাসহ ইউপি চেয়ারম্যান তার নিজের লোক দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্সের নামে রশিদ মূলে প্রতিজনের কাছ থেকে ২৮০ টাকা করে আদায় করেন।

ধারদেনা করে ১৬৫ জন দুস্থ ওই দোকান থেকে ৫০০ টাকা দিয়ে বিকাশ হিসাব খোলেন। এদিকে চেয়ারম্যানের এ টাকা আদায়ের বিষয়টি জানাজানি হলে সচেতন মানুষের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবির এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান এসএম রূপমের সা‌থে মুঠোফোনে কথা হ‌লে তি‌নি বিষয়‌টি সু কৌশু‌লে এ‌ড়ি‌য়ে যান।

তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মুজাহিদ সরকার বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে। ভিডিওতে কথা বলা নারী‌দের কথা শোনা হ‌য়ে‌ছে।

আপনার মতামত লিখুন :